Saturday, October 19, 2019

বায়োফ্লকে কোন জাতের মাছ চাষে বেশী লাভজনক ও কি পরিমাণ মাছ ছাড়া যায়



বায়োফ্লক প্রযুক্তি সাধারণত অল্প জায়গায় অধিক মাছ উৎপাদনের একটি কৌশল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া,  ফিলিপাইন এমনকি ইন্ডিয়াতেও এই চাষ পদ্ধতি এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আমাদের দেশের আবহাওয়া এই পদ্ধতি চাষাবাদের জন্য অনেকাংশ অনুকূল।  কারন আমাদের শীতকাল মাএ ২ মাস যখন ফ্লক উৎপাদনে একটু সমস্যা হতে পারে। অনেক দেশে শীতকাল ৪/৫/৬ মাস। যার কারনে সেই সব দেশে বায়োফ্লক প্রযুক্তি অনেক ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যাইহোক অনেকে গ্রুপে জানতে চেয়েছেন বায়োফ্লকে কোন প্রজাতির মাছ চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায় ও কি পরিমাণ মাছ চাষ করা যায়। আসুন তাহলে এ বিষয় গুলো বিস্তারিত জেনে নেই।
বায়োফ্লকে শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা, চিংড়ি ও তেলাপিয়া জাতীয় মাছ চাষাবাদ করলে বেশী লাভবান হওয়া যায়। বিশেষকরে চিংড়ি ও তেলাপিয়া ফ্লক খেয়ে থাকে এজন্য এ জাতীয় মাছে খাবার খরচ অন্যন্য মাছের তুলনায় কম লাগে। আমাদের দেশে অনেকেই তেলাপিয়া চাষে সফল হয়েছেন। কারণ তেলাপিয়া মাছ যেকোন পরিবেশে সহজে নিজেকে মানিয়ে নেয়। যেমন অতিরিক্ত স্যালাইনিটি, অতিরিক্ত  তাপমাএা , রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দ্রুত বর্ধণশীলতা ইত্যাদি এ মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তেলাপিয়া মাছটি ৪-৪.৫ মাসে বিক্রয় উপযোগী হয়। বায়োফ্লকে বছরে ২ টি হারভেষ্ট করা যায়। তবে তেলাপিয়াটি হতে হবে মনোসেক্স প্রজাতীর। আর শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা চাষাবাদটি একটু sensitive.  পানির সবগুলো গুণাগুণ সবসময় ঠিক রাখতে হবে। বিশেষ করে Salinity বিষয়টি important. সব সময়  salinity ১-১.৫ পিপিটি এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। PH, এ্যমোনিয়া optimum রাখতে পারলে এ মাছ গুলো চাষাবাদ করে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব। এ জাতীয় মাছ গুলোও বৎসরে ২ টি হারভেষ্ট সম্ভব তবে বড় সাইজের পোনা ছাড়তে হবে এবং ঘনত্ব কম দিতে হবে। তবে যারা প্রথম চাষ শুরু করবেন তারা শুরুতে মনোসেক্স তেলাপিয়া দিয়ে শুরু করুন এর পরবর্তী শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা চাষাবাদ বুঝতে সহজ হবে এবং ঝুকি কম হবে। আর একটি কথা যারা এখনও শুরু করেন নি তারা অবশ্যই শীতের পর শুরু করবেন। শীতে ফ্লক এর সমস্যা হতে পারে।

বায়োফ্লকে ইন্দোনেশিয়াতে ১০০০ লিটারের বায়োফ্লকে তারা ১০০ কেজি মাছ উৎপাদন করে থাকে ৪/৫ মাসে। তবে আমাদের দেশেও হয়ত সম্ভব তবে ভালোমানের প্রবায়োটিক ও প্রবায়োটিকের adaptation দরকার। তবে আমাদের দেশে ১০০০ লিটার বায়োফ্লকে ৫০/৬০ কেজি উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। তো আসুন এখন জানি কি পরিমান মাছ ছাড়ব তার হিসেব। ধরুন আপনার একটি ১০০০ লিটারের বায়োফ্লক আছে। আপনি তেলাপিয়া মাছ ছাড়বেন। আপনার প্রডাকশান টার্গেট ৬০ কেজি ৪ মাসে। তেলাপিয়া সাধারনত ৪ মাসে ২/৩ টায় কেজিতে আসে। যদি আপনি ২ টায় কেজিতে আনতে চান তাহলে ১২০ টি পোনা ছাড়ুন। আার যদি ৩ টায় কেজি আনতে চান তাহলে ১৮০ টি পোনা ছাড়ুন। কিছু মাছ মারা যেতে পারে তাই ৫% পোনা অতিরিক্ত ছাড়ুন। মাছের পোনাগুলো ছাড়ার সময় যেন ১৫০০-২০০০ পিসে ১ কেজি হয় সেদিকে খেয়াল করুন। শিং, পাবদা, গুলশা, মাগুর পোনা গুলো ২০০ পিসে ১ কেজি ছাড়ার চেষ্টা করুন তাহলে বছরে ২ টি ফলন বিক্রি করতে পারবেন। এভাবে যেকোন মাছের যেকোন পরিমান পোনার হিসেব করে পোনা ছাড়তে পারবেন। খাবার নিয়ে পরবর্তী পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। 

লেখকঃ

কৃষিবিদ তৌহিদুল ইসলাম শাকিল 
Bsc(Fisheries), MS(Aquaculture)
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। 
Founder & CEO, Modern Agro & Fisheries
General Manager, Rashid Agro Group.
Ex, Project Manager(Fisheries), EON Group.

Thursday, October 17, 2019

বায়োফ্লকে প্রতিদিন মোলাসেস(চিটাগুড়) ব্যবহারের নিয়ম ও পরিমাণ।

বায়োফ্লক এর প্রাণ হল ব্যাকটেরিয়া। এ ব্যাকটেরিয়া গুলোর কার্যকারীতা নির্ভর করে কার্বন সোর্স অর্থ্যাৎ মোলাসেস এর সঠিক পরিমাণে ব্যবহারের উপরে। বায়োফ্লকে কি পরিমাণ মোলাসেস ব্যবহার করব তা নির্নয়ের কয়েক টি কৌশল আছে। গত পর্বে আলোচনা করেছি C:N ratio পদ্ধতি। আজকে আরও ২ টি সহজ পদ্ধতি আলোচনা করব। আসুন জেনে নেই এবং এভাবে প্রয়োগ করি।

কৌশল: ২।। 
আমরা যারা বায়োফ্লকে মাছ চাষ করছি বা করব তাদের প্রতিদিন এ্যমোনিয়া ও ফ্লক দেখা উচিৎ।  এ্যমোনিয়া টেস্ট করার জন্য কিট আছে।  এ্যমোনিয়া লেভেল অনুযায়ী বায়োফ্লক এ প্রতিদিন মোলাসেস বা চিটাগুড় প্রয়োগ করা যায়। ধরুন আপনার ১০০০ লিটারের একটি বায়োফ্লক আছে। এ্যমোনিয়া টেস্ট করে এর মান পেলেন ১ পিপিএম। অর্থ্যাৎ ১ মিলি গ্রাম/লিটার। অর্থ্যাৎ প্রতি লিটারে ১ মি.গ্রা এ্যমোনিয়া আছে। তাহলে ১০০০ লিটারে ১০০০ মি.গ্রা বা ১ গ্রাম এ্যমোনিয়া আছে। এই ১ গ্রাম এ্যমোনিয়াকে নির্মূল করতে ১০০০ লিটারের জন্য ১০/১৫/২০ গুণ কার্বন সোর্স অর্থ্যাৎ ১০/২০/৩০ গ্রাম মোলাসেস দিতে হবে। এভাবে যেকোন পরিমাণ বের করে দিতে পারবেন। মোট পরিমানটি ৩ ভাগে দিন। ফ্লক ৩০-৪০% এবং এ্যমোনিয়া কম থাকলে মোলাসেস দেবার প্রয়োজন নেই। ফিস ট্যাংকে এ্যমোনিয়ার অপটিমাম লেভেল ০.৫ পিপিএম বা এর নিচে রাখুন।

কৌশলঃ ৩।।

আর একটি সহজ হিসেব আছে আপনি যা ফিড দিচ্ছেন তার ৩০ -৩৫ % মোলাসেস প্রতিদিন বায়োফ্লকে দিন। যদি ১ কেজি ফিড লাগে তাহলে ৩০০-৩৫০ গ্রাম  মোলাসেস দিন। তবে উপরের দুটি পদ্ধতিই scientific। বায়োফ্লকে সফলতার জন্য বিষয় গুলো জটিল মনে হলেও আয়ওে আনতে হবে।

অামরা প্রচলিত যে মিটারে এ্যমোনিয়া টেস্ট করি ওটা আসলে TAN(total amonia nitrogen) রিডিং দেয়। এই রিডিং মানটি শুধু এ্যমোনিয়া নয়। এখানে এ্যমোনিয়াম এর মাণও প্রদর্শন করে যা কিনা মাছের জন্য ক্ষতি নয় বরং ভালো। এই TAN থেকে এ্যমোনিয়া এর পরিমানটি বের করতে হলে বায়োফ্লক এর পানির  pH এবং temperature এর মান চেক করে water management chart/ Amonia factor chart এর সাথে মিলিয়ে এ্যমোনিয়ার পরিমানটি বের করতে হয়।


লেখকঃ

কৃষিবিদ তৌহিদুল ইসলাম শাকিল
Bsc(Fisheries), MS(Aquaculture)
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
Founder & CEO, Modern Agro & Fisheries
General Manager, Rashid Agro Group.
Ex, Project Manager(Fisheries), EON Group.


Tuesday, October 15, 2019

মাছ চাষের পুকুরে বা ট্যাংকে অ্যামোনিয়ার উৎসঃ

মাছ চাষের পুকুরে অ্যামোনিয়ার প্রধান উৎস হলো মাছের মলমূত্র, অতিরিক্ত খাদ্য ও আলগির পঁচন। যে হারে মাছ মলমূত্র ত্যায়াগ করে, অ্যামোনিয়া সৃষ্টি করে তা খাদ্যের পরিমাণ এবং প্রয়োগকৃত খাদ্যের প্রোটিন পরিমাণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। খাদ্যের মধ্যে থাকা প্রোটিন মাছের শরীরে ভেঙ্গে গিয়ে, কিছু নাইট্রোজেন প্রোটিন গঠনের জন্য ব্যবহৃত হয় ( যেমনঃ পেশীর বৃদ্ধি ) এবং কিছু শক্তির জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমনঃ মাছের চলাচল)। আর কিছু ফুলকার মাধ্যমে অ্যামোনিয়া হিসাবে নির্গত হয়। সুতরাং, খাদ্যের প্রোটিন হলো, মাছ প্রতিপালিত হওয়া জলাশয়ের বেশিরভাগ অ্যামোনিয়া হওয়ার প্রধান  উৎস।
মাছের পুকুরে অ্যামোনিয়ার আর একটি প্রধান উৎস হলো পুকুরের তলায় জমা হওয়া জৈব তালানী। প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ, শেওলা বা আলগি ব্লুমের কারণে সৃষ্টি হয় বা মাছের খাদ্য থেকে পানিতে যুক্ত হয়। মাছ এবং মৃত শেওলা বা আলগি দ্বারা সৃষ্ট পচনশীল জৈবপদার্থ গুলো পুকুরের তলায় জমা হয়। যেখানে তলানী গুলো পচে যায়। এই জৈব পদার্থের পচন থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়, যা তলানী থেকে পানির সব অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

Sadar Amni

বায়োফ্লকে পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য ছোট ট্যাংক উপযোগী নয় কেন?



১. পানি দ্রুত নষ্ট হয়, ফলে পানি পরিবর্তন করা লাগে।
২. মাছের বৃদ্ধি কম হয়।
৩. পানির প্যারামিটার যন্ত্রপাতি খরচ বেশী।
৪. শ্রমিক খরচ বেশী।
৫. অ্যামোনিয়া দ্রুত বাড়ে, ফলে  পানিতে কার্বন উৎস (চিটাগুড়) বেশী লাগে তাই খরচ বাড়ে।
৬. ছোট ট্যাংক হলে মাছ উৎপাদন কম হয়। যা বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক নয়।
৭. বাণিজ্যিক বায়োফ্লক প্রজেক্টের আয়তন কম পক্ষে ৫০০ - ২০০০ টনের হতে হবে।
৮. ছোট ট্যাংকে বায়োফ্লক করে অভিজ্ঞতা নেওয়া যাবে। লাভবান হওয়া যাবে না।
৯. বায়োফ্লক করার আগে তার উৎপাদন, আয় ও ব্যয় খরচ কি হবে তা ভাল করে বিশ্লেষণ করে প্রকল্প শুরু করতে হবে।
১০. ইউটিউব দেখে ছোট ট্যাংকে অধিক মাছ উৎপাদন ও লাভের আশা পরিহার করতে হবে।
১১. বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের আগে পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা জরুরী।
১২. ট্যাংকের আকার আকৃতি ও চাষ উপযোগী ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে।

Sadar Amin

বায়োফ্লকে ফ্লক optimum লেভেলে ধরে রাখার কার্যকারী কৌশল


বায়োফ্লক একটি  science & scientific কালচার সিস্টেম। ফ্লক পরিমাপ করা হয় ইমহোপ কোণ(imhoff cone) দিয়ে। অনেক সময় ফ্লক তৈরির সব procedure
ফলো করার পরও ফ্লক আসতে দেরী হয়,  ফ্লক কম হয় অথবা  ফ্লক হয় না।  হা বন্ধুরা এ রকম হতে পারে তখন আপনারা আপনার টিউবওয়েল বা মটরের পানি জনসাস্থ অফিস ল্যাবে পানি প
রীক্ষা করুন।  হয়ত পানির মধ্যে এমন কোন উপাদান যেমন আর্সেনিক, লেড, ক্যাডমিয়াম ইত্যাদি বেশী পরিমানে আছে য়ার কারনে ফ্লক গ্রো করার মত পরিবেশ পাচ্ছে না। আর একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হল আপনি যে প্রোবায়োটিক টি কিনছেন তার  manufacturing date, expaire date  ভালোভাবে দেখে কিনুন। expaire date কাছাকাছি সময়ে ব্যকটেরিয়ার একটিভিটি কমে যেতে পারে। আপনি যে এয়ারেশনের জন্য airstone ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই ন্যানো বা মাইক্রো হতে হবে। তাহলে ফ্লক এর উৎপাদন এবং সাইজ ঠিক থাকবে। পানিতে এয়ারেশান smoothly দিন অথ্যাৎ খুব কম না আবার খুব বেশি জোরে না। পানির অসমোটিক পেশারে ব্যকটেরিয়ার grow হতে সমস্যা হতে পারে। Dissolve oxygen লেভেল ৪-৬ mg/ltr রাখুন। প্রতিদিন ব্যাকটেরিয়া তথা ফ্লক এর খাবার দিন।  ব্যাকটেরিয়ার খাবার হল কার্বন সোর্স। কার্বন সোর্স এর উৎস হল চিটাগুর, চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি। কার্বন সোর্স এর পরিমান টি কতটুকু ফিড দিচ্ছেন তা কতটুকু নাইট্রোজেন এ convert হচ্ছে তার ক্যালকুলেশান এর উপর দিতে হয়। যেটাকে C:N ratio বলে। its very very important for biofloc.

লেখকঃ

কৃষিবিদ তৌহিদুল ইসলাম শাকিল
Bsc(Fisheries), MS(Aquaculture)
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
Founder & CEO, Modern Agro & Fisheries
General Manager, Rashid Agro Group.
Ex, Project Manager(Fisheries), 

বায়োফ্লকে ফ্লক কি? ফ্লক হচ্ছে কিনা তা বোঝার কয়েকটি কৌশল


ফ্লক কি? 


বায়োফ্লকে যখন ব্যকটেরিয়া গুলো  grow & multiply
করে পরে এই উপকারী ব্যকটেরিয়া গুলোর কলোনি বা দলবদ্ধ অবস্থাকে ব্যকটেরিয়ার ফ্লক বলা হয়। সাধারণত ফ্লক এর আকৃতি ৫০ থেকে ২০০ মাইক্রোন পর্যন্ত হতে পারে। এই ফ্লক এর মধ্যে ৩০-৪০%  protein,  ১-১২% Fat এবং ১-৪ % বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। ফ্লক গুলো সাধারণত বাদামী বা ধুসর বর্ণের হয়ে থাকে।

কি ভাবে বুঝবেন ফ্লক হচ্ছে কি না? 


বায়োফ্লকে যখন ব্যকটেরিয়া grow শুরু করে তখন ব্যকটেরিয়া গুলো এক ধরনের মিউকাস সিকরেশান করে। মিউকাস হল এক ধরনের পিচছিল জাতীয় রস যা পরবর্তীতে কলোনী অর্থ্যাৎ  ফ্লক তৈরির জন্য কাজে লাগে। আপনার বায়োফ্লকের দেয়াল বা এিপাল, অক্সিজেন/এরেশান পাইপ গুলোর গা গুলো খেয়াল করুন যদি পিচছিল অবস্থা  বোঝা গেলে অপেক্ষা করুন  ফ্লক হবে ইনশাল্লাহ। ট্যাংকের নিচের পানি সংগ্রহ করুন হলদেটে বা ধুসর রংগের কিছু দানা বুঝা গেলে তা একটি বালতিতে নিন। কয়েকটি তেলাপিয়া মাছ দিন। যদি দানাদার উপাদান গুলো খেয়ে ফেলে তাহলে বুঝতে পারবেন এ গুলোই ফ্লক। বায়োফ্লকে কিছু খুদি পানা দিলে যদি এগুলো গ্রো করে তাহলে বুঝতে পারবেন ফ্লক হচ্ছে। প্রথমে ফ্লক সাধারণত নিচে থাকে মাছ ছেড়ে দেয়ার পর পুরো পানিতে দৃশমান হয়।

প্রোবায়োটিক একটিভিশনের কৌশল ২ এর জন্য বায়োফ্লকে FCO দেয়ার কয়েক দিন পর ফ্লক দৃশমান হতে পারে। তবে FCO দেয়ার ১ দিন পরেই মাছ দেয়া যায়। কোন সমস্যা নেই। কয়েক দিন পর অনেক ফ্লক দৃশ্যমান হয়।

সর্বোপরি এটি একটি  science & scientific কালচার সিস্টেম। তাই ফ্লক পরিমাপ করা হয় ইমহোপ কোণ দিয়ে। ১ লিটার পানিতে ৩০-৪০ মিলি ফ্লক হল আদর্শ মান। কম বা বেশি হলে কি করবেন এবং কিভাবে ফ্লক  ধরে রাখবেন তা পরবর্তী পোস্টে বিস্তারিত পাবেন ইনশাআল্লাহ।

#কৃষিবিদতৌহিদুলইসলামশাকিল

সবাই অনেক ভালো থাকবেন। আপনাদের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।

লেখকঃ

কৃষিবিদ তৌহিদুল ইসলাম শাকিল
Bsc(Fisheries), MS(Aquaculture)
বাংলাদেশ কৃষি  বিশব্বিদ্যালয়ের, ময়মনসিংহ।
Founder & CEO, Modern Agro & Fisheries
General Manager, Rashid Agro Group.
Ex, Project Manager(Fisheries), EON Group.


বায়োফ্লকে প্রোবায়োটিক দিয়ে ফ্লক তৈরির কৌশল



আজকে জানি প্রোবায়োটিক কালচার করে কিভাবে ফ্লক তৈরি করব। আমি কয়েকটি কৌশল নিয়ে আলোচনা করব। আজকে একটি কৌশল আলোচনায় থাকবে।

কৌশল ১ঃ


আমরা প্রথমে আমাদের ফিশ ট্যাংক টি জীবানুমুক্ত
করব চুন বা পটাশিয়াম পার ম্যাংগানেট বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে। এরপর ২ দিন রোদে শুকাবো। এরপর ট্যাংকের মোট ক্যাপাসিটির ৬০% মটরের পানি ঢুকাবো। এয়ারেশন চলবে ২ দিন। ৩ য় দিন পানির pH এবং TDS পরীক্ষা করুন। pH থাকতে হবে ৭-৮.৫ এবং TDS থাকতে হবে ১০০০-১৫০০ এর মধ্যে। pH এবং TDS এর আলোচনা পর্বটি দেখুন কম বা বেশী হলে কি করবেন। ৪ র্থ দিন দুপুরে পানিতে প্রতি লিটারের জন্য ০.২৫ মিলি চিটাগুড় গুলিয়ে পানিতে দিন। ৪ র্থ দিন সন্ধায় ৫০০ গ্রাম চিটাগুড় এর সাথে প্রোবায়োটিক ( pona care/ biofav aqua/everfresh pro, aqualife s etc) ৫-১০ gm/১০০০ লিটারের জন্য ভালো করে গুলিয়ে ফিশ ট্যাংকে ছিটিয়ে দিন। এর পর এরেশন হালকা ভাবে দিন এবং প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়াতে থাকুন।  প্রথমেই বেশী speed  এ এরেশান  দেয়া হলে পানির অসমোটিক পেশারে ব্যকটেরিয়ার সেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ২/৩ দিন পর থেকে চিটাগুড়  ০.০১ gm/ltr  এর জন্য বায়োফ্লক এ দিতে থাকুন। ৭-১৫ দিন ফ্লক এর জন্য অপেক্ষা করুন।
ইনশাল্লাহ ফ্লক জেনারেশন হবেই। ফ্লক কিভাবে বুঝব তা পরে আলোচনায় আসবে ইনশাআল্লাহ। 

কৌশল : ২


আমরা প্রথমে আমাদের ফিশ ট্যাংক টি জীবানুমুক্ত
করব চুন বা পটাশিয়াম পার ম্যাংগানেট বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে। এরপর ২ দিন রোদে শুকাবো। এরপর ট্যাংকের মোট ক্যাপাসিটির ৬০% মটরের পানি ঢুকাবো। এয়ারেশন চলবে ২ দিন। ৩ য় দিন পানির pH এবং TDS পরীক্ষা করুন। pH থাকতে হবে ৭-৮.৫ এবং TDS থাকতে হবে ১০০০-১৫০০ এর মধ্যে। pH এবং TDS এর আলোচনা পর্বটি দেখুন কম বা বেশী হলে কি করবেন। ৪ র্থ দিন দুপুরে পানিতে প্রতি লিটারের জন্য ০.২৫ মিলি চিটাগুড় গুলিয়ে পানিতে দিন। ৪ র্থ দিন সন্ধায়  FCO দিন ৫০০ মিলি প্রতি ১০০০ লিটারের জন্য।  তাহলে এখন আসুন আমরা জানি FCO কি এবং কিভাবে তৈরি করতে হয়।

FCO: Fermented  carbon organic  অথবা  এটাকে বলে বাংলায় প্রাকৃতিক গাজন প্রক্রিয়া। সহজ কথায় আমরা যে বাজারে প্যাকেটজাত প্রোবায়োটিক কিনি তা সুপ্ত অবস্থায় থাকে সেটিকে জীবন্ত বা কার্যকারী করার প্রক্রিয়ার নাম হল FCO. এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি প্রতিদিন আপনার ফ্লকে নতুন একটিভ ব্যাকটেরিয়া দিচ্ছেন ফলে এ্যমোনিয়া control এবং ফ্লক management টি একদম easy. আপনার ফ্লক সবসময় একরকম থাকবে  এবং এ্যমোনিয়া গ্যাস control এ থাকবে।  এটি একটি ব্যচ প্রক্রিয়া  ৷ ১ মাসে জন্য করে তৈরি করবেন। তৈরির কৌশলটি হল ধরুন আপনি ১০০০০ লিটারের বায়োফ্লক এর জন্য ৩০ দিনের  FCO তৈরি করবেন। এর জন্য ২০ লিটার মটরের পানি  বালতি বা বড় পাতিল বা drum এ নিন। এবং ৭৫০ gm আয়োডিন বিহীন লবণ দিন। ৫০০ gm চিটাগুড় গুলিয়ে পানিতে দিন। ১০০ gm প্রোবায়োটিক   pond care/biofav aqua/everfresh pro ভালো ভাবে গুলোয়ে পানিতে দিন। ৭ দিন smoothly এরেশান দিন।  ২/৩ দিন পর থেকে  ৫০ gm করে চিটাগুড় বালতিতে দিন। brown কালার চলে আসবে। এভাবেই তৈরী হল আপনার FCO.
৪ র্থ দিন আপনি FCO দিয়েছেন বায়োফ্লকে এবং ৫ ম দিন আপনি মাছ ছেড়ে দিতে পারবেন। এর পর প্রতিদিন  বায়োফ্লক ৫০০ মি.লি. করে  FCO দিবেন। তাহলে ১০০০০ লিটারের বায়োফ্লক এর জন্য যে আপনি ২০ লিটার FCO তৈরি করলেন যা প্রথম ব্যবহার হল ৫ লিটার আর প্রতিদিন ব্যবহার হবে হাফ লিটার করে তাহলে এই ২০ লিটার FCO ১ মাস ব্যবহার করবেন। আর প্রতিদিন ফিড খাওয়ানোর হিসেব অনুযায়ী চিটাগুর দিতে হবে। এটা আমি পরে আলোচনা করুন। এভাবে আপনার ৫০০০ লিটারের জন্য, ১৫০০০, ২০০০০ লিটারের জন্যও তৈরি করবেন।

#কৃষিবিদতৌহিদুলইসলামশাকিল

সবাই অনেক ভালো থাকবেন। আপনাদের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।

লেখকঃ

কৃষিবিদ তৌহিদুল ইসলাম শাকিল
Bsc(Fisheries), MS(Aquaculture)
বাংলাদেশ কৃষি  বিশব্বিদ্যালয়ের, ময়মনসিংহ।
Founder & CEO, Modern Agro & Fisheries
General Manager, Rashid Agro Group.
Ex, Project Manager(Fisheries), EON Group.